শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
টাকা দিয়েও মিলছে না খড়, পানির দরে গরু বিক্রি

টাকা দিয়েও মিলছে না খড়, পানির দরে গরু বিক্রি

দীর্ঘমেয়াদী বন্যার পর কুড়িগ্রামের উলিপুরে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারিসহ প্রান্তিক চাষিরা। টাকা দিয়ে সোনা মিললেও খড় মিলছে না। ফলে অনেকেই পানির দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে, অবস্থাসম্পন্ন কৃষকরা চুরি হওয়ার ভয়ে রাত জেগে খড়ের গাদা পাহাড়া দিচ্ছেন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ সূত্র জানায়, এ উপজেলায় গরু ১ লাখ ২৫ হাজার ও মহিষের সংখ্যা ১০ হাজার রয়েছে। ছোট-বড় খামার রয়েছে ৪১৫টি। এর মধ্যে খাদ্যের জোগান দিতে না পারায় প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এসব খামারে গরু প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি খড়ের প্রয়োজন হয়। খড়সহ অন্যান্য খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে অর্ধেক খড় গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। এত করে অনেক খামারি গবাদি প্রাণির কষ্ট সহ্য করতে না পেরে পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরেজমিনে উপজেলার হাতিয়া ভবেশ, অনন্তপুর, নয়াদাড়া, ধামশ্রেনী কাশিয়াগাড়ী, গুনাইগাছ, দলদলিয়া, বুড়াবুড়ি, জোনাইডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ খড়ের আঁটি ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চড়া দামে দূর-দূরান্ত থেকে এসব খড় কিনে আনতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। অনেক সময় টাকা দিয়েও খড় মিলছে না। এদিকে দুধের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারীরা। কাশিয়াগাড়ী গ্রামের খামারি জাহেদুল ইসলাম সাজু বলেন, তার খামারে ১২টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক আঁটির প্রয়োজন হয়। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় চাহিদামত গো-খাদ্যের জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শহীদ এন্ড ডেইরী ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মুজিবুল আহসান রাজু বলেন, গো-খাদ্যের চড়া দাম, টাকা দিয়েও সোনা মিললে, খড় মিলছে না। প্রতিটি আঁটির দাম ১৬ থেকে ১৭ টাকা। তিনি আরো জানান, তার খামারে ৫৭টি গরু ছিল। খাদ্যের অভাবে ৪২টি গরু পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ১৫টি গরু রয়েছে। এসব গরুর খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাতিয়া ইউনিয়নের বাবুরচর গ্রামের প্রান্তিক খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার খামারে ১১টি গাভী ছিল। কয়েকবারের ভয়াবহ বন্যায় চরাঞ্চলের চারণভূমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় গো-খাদ্যের চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়ায় নিরুপায় হয়ে পানির দরে গাভিগুলো বিক্রি করেছেন। একই কথা জানালেন খামারী আফজাল হোসেন মাস্টার, রেজাউল করিম, আমিনুল ইসলামসহ অনেকে। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ৫ দফা বন্যায় খড়ের গাদা ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় গো-খাদ্য সংকট নিরসনে প্রণোদনা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, করোনাকালীন প্রণোদনা পাওয়া গেলেও গো-খাদ্য সংকট নিরসনে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

এখান থেকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 ActionBD24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com